Tuesday, August 9, 2011

কলেজের সেই স্বর্ণচাঁপার দিন গুলি

অনেক দিন আগের কথা । ঢাকা শহরে তখন এত বাড়িঘর মানুষজন ছিল না । শিক্ষকতা করতাম মেয়েদের এক কলেজে ।চলেছি ক্লাস নিতে । চোখে পড়ল ড্রেন খুঁড়ে পাশে মাটি তুলে রাখা হয়েছে । কাজের লোকদের জিঞ্জেস করে জানতে পারি এসব মাটি ফেলে দেওয়া হবে । ইচ্ছে করলে আমি ও নিতে পারি আমাদের কলেজটি নতুন , চত্বরটি বিরান । সর্বএ খানাখন্দ । ভাবি এই মাটি দিয়ে গর্তগুলি ভরাট করে গাছপালা লাগানো যায় । কলেজে গিয়েই প্রিন্সিপাল আপাকে কথাটি বলি । তিনি জানান ফান্ডে বাড়তি টাকা নেই । ক্লাস শুরুর ঘন্টা বাজে । আমি ঠায় দাঁড়িয়ি আছি দেখে আপা আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলেন ।
-কত লাগতে পারে ?
-সামান্য , শতিনেক টাকা ।
কী একটা হিসাব কণে তিনি রাহি হয়ে যান । এভাবেই শুরু ।ড্রেনের মাটি এনে চত্বরটি সমান করে গাছগাছালি লাগানো হল । সামনেসড়কের পাশের দেয়াল ঘেঁষে একসার পেল্টে ফরাম, তারপর কৃষ্ঞচূড়া, শেষে লাল সোনালু । ওগুলিতে একসঙ্গে পাতা ঝরে , ফুল ফোটে । পেল্টোফরামের হলুদ ,কুষ্ঞচূড়ার রাল বা গাঢ় কমলা , লাল সোনালুর গোলাপি রঙের ফুলের এই মিশেল বড়ই নজরকাড়া । এখানে ওখানে লাগানো হল আরও নানান গাছ-নাগলিঙ্গম. অশোক ,নাগেশ্বর ,কুরচি, কদম ,শেফালি জাফরুল , মিলেশিয়া এবং মূল দালানের সামনে একসারি , র্স্বণচাঁপা আর পেছনে কয়েকটি গগনশিরষী , খানিকা দূরে খোলঅ জায়গায় ছএকার বিদ্যাবৃক্ষ ছাতিম । একটি বড় লন ঘিরে গাছের উচ্চতা ,পাতার গড়ন ও ফুলের রং মিলিয়ে লাগালাম হরক রকমের গুল-রঙন, রাধাচূড়া, কাঞ্জন,জবা ,রক্তকবরী ,টগর , গন্ধরাজ, ম্যুসেন্ডা,ফুরুস, লারটানা স্হলপদ্ম ,হাসনাহেনা । নানা রঙের বাগানবিলাসী , মাধবী ,মালতী ,জূঁই ,মধুমঞ্জরি লতা তলে দেওয়া হল দালানের গায়ে ।
তিন বছরের মধ্যেই গাছ ও লতাগুল্মগুলি অনেকটাই বড় হল । ছাএীরা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলো । আমরা ওগুলির দেশি ও বৈঞ্জানিক নামের ছোট ছোট প্লেট ঝুলিয়ে দিলাম । সৌন্দর্য ও শিক্ষার মিলন ঘটল । এক বসন্তে হঠাৎ করেই স্বর্ণচাঁপার সবগুলি গাছ ফুলে ফুলে ভরে উঠল । সুগন্ধ ছড়িয়ে গেল সবখানে ।ছাএীরা ভিড় জমাল । গান গাইতে লঅগল । ক্লাসে যেতে চাইল না ।
তারপর একদিন আমি চলে গেলাম বিদেশে একটি চাকরি জুটিয়ে । ফিরলাম একটানা তিন বছর পর । বাগানটি দেথার তর সইছিল না । ছুটলামকলেজে । কিন্তু এ কী ? বাগান কোথায় ?
এটি তো বড়সড় একটি বন । বকলাম মালীকে । সে কাঁচুমাচু করে জানাল প্রিন্সিপাল আপা তাকে গাছপালা ছাটতে দেন নি । বলেছেন ,যার বাগান সে আসুক । কী আর করা ! মালীকে নিয়ে তিনদিন খেটে সবকিছু ঠিকঠাক করলাম । যে কয়দিন ছিলাম সময় পেলেই সন্ধাবেলা বাগানে আসতাম । কেউ কোথাও নেই । কাক ও শালিকের দল ইতিমধ্যে গাছে ফিরে ডাকাডাকি থামিয়েছে ।নি:শব্দ চরাচর । আমি স্বপ্নতাড়িতের মতো ঘুরে বেড়াতাম ।অদ্ভুত এক ঘোর লাগত সময়ের হিসাব গুলিয়ে ফেলতাম । কোন কোন দিন মালী আমাকে ঝুঁজতে আসত ।
একসময় বিদেশ আর ভাল লাগছিল না । ফিরে এলাম দেশে । থিতু হতে কিছুটা সময় লাগল । যাই যাই বরেও কলেজ আর যাওয়া হল না । শেষে গেলাম একদিন । গ্রীম্মকাল । প্রচন্ড গরম । দেখি .পেল্টেফরামের গাছগুলি ডালপালা ছড়িয়ে সড়কের উপর শীতল ছায়া বিছিয়েছে । নিচে বিশ্রাম করছে রিকশাওয়ালা ,ঠেলাওয়ালা । ঘুমাচ্ছে ও দু- একজন । গাছ গুলি হলুদ ফুলে ঠাসা । বাতাসে একটা হালকা সুগন্ধ । কলেজ বন্ধ, হযতো গরমের চুটি চলছে । গেটে গিয়ে মালীকে ডাকি । কেউ সাড়া দেয় না । ফটকের পাল্লা পেটালে একটি অচেনা মুখ উঁকি দেয় ।
-রহমত কোথায় ?
-সে তো নেই স্যার ।
গেট খোলো , প্রিন্সিপাল আপার কাছে যাব ।
তিনিও নেই স্যার । কলেজ ছেড়ে গেছেন অনেকদিন ।
সে গেট খুলে দেয় । কলেজে ঢুকে মনে হয় যেন অচেনা জায়গায় পা দিয়েছে । সড়কের পাশের গাছগুলি ছাড়া আর তেমন কিছু নেই । গোটা বাগানটি প্রায় শূন্য । দু-চারটি যা আছে সেগুলিও অযত্নে মর-মর । এখানে -ওখানে জঙ্গল গজিয়েছে ।
বাগানের এমন হাল কেন ?
জানি না স্যার , আমি আসার অব্দি এরকমই দেখছি ।
মালী কোথায় ?
তিনি মারা গেছেন ।
মনটা খারাপ হাঁটাহাঁটি করি । বড় ক্লান্ত লাগে । কী যেন খুঁজি কিন্তু পাই না ।
স্বর্ণচাপার জায়গাটা খালি, গাছগুলির চিহু ও নেই । নাগলিঙ্গম , ছাতিম আর অশোক বেঁচে আছে । ভাবি , বন্যায় হয়তো সবকিছু তছনছ হয়েগেছ । তখন শুধু সেই স্বর্ণচাঁপার দিন গুলি মনে হতে লাগল ।

Sunday, July 17, 2011

t shart design

Wednesday, April 6, 2011

বিশ্বের সবচেয়ে দামি হাতব্যাগ ।

বিশ্বের সবচেয়ে দামি হাতব্যাগটির নাম হচ্ছে '১০০১ নাইটস ডায়মন্ড পার্স' । ৩৮ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের ব্যাগটি বাজারে এনেছে দুবাইয়ের বিখ্যাত জুয়েলারি ব্র্যান্ড হাউস অব মোয়াওয়াদ'স । ৪ হাজার ৫১৭ টি হীরা দিয়ে মোড়া ব্যাগটিকে গিনেস বুক অব রেকর্ড সবচেয়ে দামি ব্যাগ হিসেবে আখ্যা দেয় । ব্যাগটিতে ব্যবহার করা হীরার মধ্যে ১০৫ টি হলুদ ,৫৬ টি গোলাপী এবং ৪ হাজার ৩৫৬ টি বর্ণহীন । ১০ গহনাশিল্পীর ব্যাগটি তৈরী করতে সময় লেগেছে চার মাস ।

গাছদূত ফেলিক্স ফিংকবেইনার

বৈশ্বিক জলবায়ুকে চরমভাবান্নতার হাত থেকে রক্ষায় গাছ লাগানোর আন্দলোন শুরু করে বিশ্বব্যাপী হৈচৈ ফেলে দিয়েছে ১৩ বছর বয়সী জার্মান শিশু ফেলিক্স ফিংকবেইনার । কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ শিশুটিকে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদের সভায় ভাষন দানরে সুযোগ দেয়া হয়েছে। তাকে সম্বোধন করাহয়েছে "গাছদূত " হিসেবে । জামর্মান শিশুটি যখন গ্রেড ৪-এর ছাএ তখন শ্রেণীকক্ষের সহপাঠীদের নিয়েই প্রতিষ্ঠাকরে ফেলে " ধরিএীর জন্য গাছ "(Plant for the planet)নামের একটি সংগঠন । এর উদ্দেশ্য হচ্ছে , জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকাতে যতটা সম্বব গাছ লাগানো যায় । তার সংগঠনের সদস্য এখন ৯১ টি দেশের এক লাখেরও বেশি শিশু, যাদের উদ্যোগে এ পর্যন্ত ৩৫ লাখের ও বেশি গাছ লাগানো হয়েছে ।

বুকের দুধের আইসন্ক্রিম ?বুকের দুধের আইসন্ক্রিম ?

অর্থনৈতিক মন্দা থেকে বাঁচতে কতজন কত কিছুই না করছে । তাদেরই একজন ব্রিটিশ নারি ভিক্টোরিয়া হিলে । তিনি তাঁর দুধ বিন্ক্রি করেছেন লন্ডনের একটি কোম্পানির কাছে । আর এ কোম্পানি সেই দুধ দিয়ে আইসন্ক্রিম বানাচ্ছে ! যার নাম ' বেবি গাগা' । ১০আউন্স দুধের জন্য হিলে পাচ্ছেন ১৫ পাউন্ড । আর বেবি গাগা খেতে ন্ক্রেতাদের খরচ হচ্ছে ১৪ পাউন্ড ।